শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন

ঐতিহাসিক মাঠে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের লড়াই ॥ হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে মাতল চুড়াইন

॥

নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
গ্যালারিতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মাঠের চারপাশে মানুষের ঢল। কারও হাতে প্রিয় দলের পতাকা, কারও কণ্ঠে উচ্ছ্বাসের স্লোগান। বাঁশি-তালি আর মুহুর্মুহু করতালিতে কেঁপে উঠছে চারপাশ। একসময় যে মাঠে নামকরা ফুটবলারদেও নৈপুণ্য দেখতে ভিড় করতেন হাজারো মানুষ, সেই ঐতিহাসিক আকারবাগ মাঠে আবারও ফিরেছে ফুটবলের সেই পুরনো উন্মাদনা।

শুক্রবার ১৪ আগস্ট বিকেলে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী আকারবাগ মাঠে অনুষ্ঠিত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। মুন্সিনগর প্রগতি সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট দেখতে মাঠে জড়ো হন হাজারো ক্রীড়াপ্রেমী।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় শ্রীনগরের মদনখালী ফ্রেন্ডস ক্লাব ও নবাবগঞ্জের শংকরখালী রোমান ক্লাব। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে পুরো ম্যাচ জুড়েই ছিল উত্তেজনা। মাঠের লড়াইয়ের সঙ্গে গ্যালারিতেও চলে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।

স্থানীয়দের কাছে আকারবাগ মাঠ কেবল একটি খেলার মাঠ নয়; এটি নবাবগঞ্জের ক্রীড়া ইতিহাসের অংশ। আশির দশকে এই মাঠে দেশের বিভিন্ন এলাকার নামকরা খেলোয়াড়দের নিয়ে ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হতো। খেলা দেখতে আশপাশের গ্রাম ছাড়িয়ে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ ছুটে আসতেন। সময় বদলেছে। মাঠকেন্দ্রিক বিনোদনের জায়গা অনেকটাই দখল করেছে প্রযুক্তি নির্ভর জীবন। কিন্তু শুক্রবারের গোল্ডকাপ প্রমাণ করল সুযোগ পেলে নবাবগঞ্জের মানুষ এখনো ফুটবলের মাঠে ফিরতে প্রস্তুত।

গ্যালারিতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মাঠের চারপাশে মানুষের ঢল। কারও হাতে প্রিয় দলের পতাকা, কারও কণ্ঠে উচ্ছ্বাসের স্লোগান। বাঁশি-তালি আর মুহুর্মুহু করতালিতে কেঁপে উঠছে চারপাশ। একসময় যে মাঠে নামকরা ফুটবলারদেও নৈপুণ্য দেখতে ভিড় করতেন হাজারো মানুষ, সেই ঐতিহাসিক আকারবাগ মাঠে আবারও ফিরেছে ফুটবলের সেই পুরনো উন্মাদনা।

স্থানীয় প্রবীণদের চোখে তাই শুক্রবারের আয়োজন ছিল শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়; ছিল হারিয়ে যাওয়া ক্রীড়া ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার আনন্দ। প্রধান অতিথি রেল ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় খেলাধুলার জন্য একটি করে নান্দনিক মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব মাঠে তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে পারবে। তিনি বলেন, তরুণদের মাঠমুখী করতে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, আকারবাগ মাঠে ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলা দেখতে আসছি। আজও সেই ঐতিহাসিক মাঠে হাজারো দর্শক দেখে বিস্মিত হই। আশির দশকেও নামকরা অনেক খেলোয়াড় এখানে খেলতে এসেছেন। তিনি বলেন, নবাবগঞ্জকে খেলাধুলা ও বিনোদনের ক্ষেত্রে আরও উন্নত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করার পাশাপাশি স্থানীয় ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলছেন, একটি ভালো টুর্নামেন্ট শুধু বিনোদন দেয় না; এর মাধ্যমে নতুন খেলোয়াড় তৈরির পথও তৈরি হয়। নিয়মিত ফুটবল আয়োজন হলে তরুণদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতা তৈরি হবে এবং তারা মাদক, অপরাধ ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকবে। তাদের প্রত্যাশা, আকারবাগ মাঠে শুধু গোল্ডকাপ নয়, সারা বছর নিয়মিত ফুটবল ও অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

মুন্সিনগর প্রগতি সংঘের সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আয়োজনে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, কানাডা প্রবাসী আমজাদ হোসেন, বিএনপি নেতা আবু শফিক খন্দকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আকারবাগ মাঠে গোল্ডকাপ আয়োজন ঘিরে যে দর্শকসমাগম হয়েছে, তা স্থানীয় ফুটবলের জনপ্রিয়তারই প্রমাণ বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাদের মতে, মাঠটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা গেলে এটি শুধু চুড়াইন নয়, পুরো নবাবগঞ্জের অন্যতম প্রধান ক্রীড়া ভেন্যুতে পরিণত হতে পারে।

আকারবাগের গোল্ডকাপ তাই শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়,এটি নবাবগঞ্জের হারিয়ে যেতে বসা ফুটবল ঐতিহ্যকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনার এক নতুন ডাক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com